চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৮৩ জন মেয়েশিশু খুন হয়েছে—যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে ৩৯০ জন মেয়েশিশু ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় আসন্ন জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৫ উপলক্ষে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বছর ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মেয়েশিশুদের মধ্যে ৪৩ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ২৯ জন প্রতিবন্ধী মেয়েশিশু। ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ১৫ জন মেয়েশিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৫ জন আত্মহত্যা করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম আট মাসে ২২৪ জন এবং ২০২৩ সালে মোট ৪৯৩ জন মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১৩৪ জন মেয়েশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে—যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক নিশাথ সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালন করা হলেও, এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার দিবসটি ৮ অক্টোবর উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য— “আমি কন্যাশিশু — স্বপ্নে গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি।”
ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রতিপাদ্যের লক্ষ্য কন্যাশিশুদের আত্মমর্যাদা, দক্ষতা, সাহস ও নেতৃত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা।
উল্লেখ্য, ‘জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম’ হলো কন্যাশিশু ও নারীর অধিকার রক্ষায় কাজ করা সরকারি-বেসরকারি ২০৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম। ২০০২ সাল থেকে সংগঠনটি দেশের কন্যাশিশু ও নারীর অবস্থার উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।









