আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষার চ্যালেঞ্জে পিছিয়ে পড়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলছে, এক বছর আগে লক্ষাধিক মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরশাসক সরকারকে হটিয়ে সফল হলেও, মোহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষায় পিছিয়ে পড়েছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘এক বছর আগে যারা শেখ হাসিনার দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে প্রাণ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল, তাদের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারসম্মত বাংলাদেশ গঠনের আশা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার যেন এক জায়গায় আটকে আছে। একদিকে সংস্কারবিহীন নিরাপত্তা বাহিনী, অন্যদিকে মাঝেমধ্যে সহিংস ধর্মীয় কট্টরপন্থী এবং এমন কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সামলাতে হচ্ছে, যারা বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষার চেয়ে শেখ হাসিনার সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে বেশি আগ্রহী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় ও দেশি-বিদেশি মানবাধিকারকর্মীরা যেসব সুপারিশ দিয়েছে, যা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার পড়ছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মব ভায়োলেন্স, পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স এবং রাজনৈতিক পার্টি ও ধর্মীয় গোষ্ঠী দ্বারা সাংবাদিক, সমকামী, উভয়কামী ও তৃতীয় লিঙ্গের উপর নির্যাতন বেড়েছে। গত ২৬ ও ২৭ জুলাই মবের জেরে রংপুরে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ১৪টি বাড়ি ভাঙা হয়। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলকায় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা বাহিনী ও বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়। সেখানে গত বছরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের গড়া ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ সমাবেশ করেছিল। পুরনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি করে পুলিশ পরে শত শত সম্ভাব্য আওয়ামী লীগ সমর্থককে নির্বিচারে আটক করে এবং আট হাজার ৪০০ জনের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা মামলা করে, যাদের অধিকাংশের নামই উল্লেখ নেই। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য গণগ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।









