বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর থেকে সরাসরি ঢাকাগামী পাঁচটি পরিবহন কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার পর থেকে হানিফ পরিবহন, কেটিসি, দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস ও গ্রামীণ ট্রাভেলসের সব বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নাটোর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের কাউন্টার থেকে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ফলে তারা বিকল্প পথে ঢাকায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অন্যদিকে একতা পরিবহন ও কিছু লোকাল বাস চলায় সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে গত ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। মালিক-শ্রমিক আলোচনার পর আংশিক সমঝোতায় বাস চলাচল শুরু হলেও বৃহস্পতিবার রাতে মালিকপক্ষ জানায়, বর্ধিত বেতন-ভাতা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এর পর শ্রমিকরা ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তাদের বেতন বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে চালক প্রতি ট্রিপে পান ১,২০০ টাকা, হেলপার ৬০০ টাকা এবং সুপারভাইজার আরও কম। তারা দাবি তুলেছেন—চালকের বেতন প্রতি ট্রিপে ২ হাজার, হেলপারের ১ হাজার ও সুপারভাইজারের ১,১০০ টাকা করার পাশাপাশি হোটেল ভাড়া ও খাবারের খরচ ভাতা হিসেবে দেওয়ার জন্য।
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার খন্দকার কোরবান বলেন, “মালিকদের নির্দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।”
ফলে রাজধানীর সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।









