আগামী জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে এবং পৃথিবীর কোনো শক্তি এ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুল আলম জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রায় এক হাজার ৬০০ বিক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছে, যা গড়ে প্রতিদিন চারটির সমান। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত। তিনি বলেন, দীর্ঘ দমন-পীড়নের পর জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা গণতান্ত্রিক পরিবেশে নানা দাবি-দাওয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমঝোতা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ধৈর্য ও পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জুলাই সনদ চূড়ান্ত হবে।
রাজবাড়ীর নুরাল পাগলার মাজারে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুল আলম জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগেভাগেই ‘ঈমান ও আকিদা রক্ষা কমিটি’র সঙ্গে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে তারা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে এবং ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্ত চলছে, এবং যারাই জড়িত থাকবে, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে সব ধর্মভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রেস সচিব বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সহনশীল, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বা গ্রাহকসেবা ব্যাহত হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।









