ফরিদপুর-৪ আসন থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন কেটে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে সড়কের পাশাপাশি রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। এর ফলে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, এনসিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল যৌথভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন কোনো তদন্ত বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই সীমানা পুনর্বিন্যাসের নামে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে যুক্ত করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক।
তিনি আরও বলেন, “ভৌগোলিক দিক থেকে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা ভাঙ্গা থেকে অনেক দূরে। রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক দিক থেকেও ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে আলগী ও হামিরদীর কোনো সম্পর্ক নেই। এই ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে দুই ইউনিয়নকে পুনরায় ভাঙ্গা উপজেলার সীমানায় ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, টানা তিন দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথ অবরোধ চলবে। অবরোধের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে—ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের আলগী ইউনিয়নের সুয়াদি বাসস্ট্যান্ড, হামিরদীর মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড, চান্দ্রা ইউনিয়নের পুলিয়া বাসস্ট্যান্ড, ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা হাসপাতাল গেট, হামিরদীর মাধবপুর ও পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এবং পুখুরিয়া রেলক্রসিং।
তিন দিনের কর্মসূচি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচিও ঘোষণা দিয়েছেন নেতারা।









