জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের নওগাম থানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানার ভেতরে বিস্ফোরণটি ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য ও ফরেন্সিক দলের কর্মকর্তারা বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এবং আনন্দবাজার পত্রিকা।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে থানার ভেতর বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। থানার চত্বরে রাখা একাধিক গাড়ি দগ্ধ হয় এবং আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বিস্ফোরণের সময় জে-কে পুলিশ ও ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি যৌথ দল সম্প্রতি হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক পরীক্ষা করছিল। কয়েক দিন আগে হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ মোট ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে, যার মধ্যে ছিল অস্ত্রশস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম। ফরিদাবাদ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, যা পরীক্ষার জন্য নওগাম থানায় সংরক্ষণ করা ছিল।
ফরেন্সিক কর্মকর্তারা বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষা করছিলেন—এমন সময় কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তাধীন। তবে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলোরই দিল্লির লালকেল্লার সামনে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারী দলের একাংশের ধারণা। দিল্লি হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি ফরিদাবাদ থেকে আনা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
দিল্লির বিস্ফোরণ ঘটনায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা উদঘাটনের ক্ষেত্রে নওগাম থানার পুলিশই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পেয়েছিল। এর আগে ১৯ অক্টোবর নওগাম এলাকায় জইশ-ই-মোহাম্মদ সমর্থনকারী পোস্টার পাওয়া গেলে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত এগিয়ে নিতে ১ নভেম্বর ড. আদিল আহমদ রাথার এবং পরে আরেক চিকিৎসক ড. মুজামিল আহমদ গণাই ওরফে মুসাইবকে গ্রেফতার করা হয়। আদিলের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ফরিদাবাদের বিস্ফোরক মজুদের তথ্য জানা যায়।









